| বঙ্গাব্দ

পাকিস্তানকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার প্রচ্ছন্ন হুমকি ভারতীয় সেনাপ্রধানের | ২০২৬

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 16-05-2026 ইং
  • 17377 বার পঠিত
পাকিস্তানকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার প্রচ্ছন্ন হুমকি ভারতীয় সেনাপ্রধানের | ২০২৬
ছবির ক্যাপশন: পাকিস্তানকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার প্রচ্ছন্ন হুমকি ভারতীয় সেনাপ্রধানের

পাকিস্তান ভারতবিরোধী কার্যক্রম চালালে মানচিত্র থেকে মুছে যাবে: ভারতীয় সেনাপ্রধানের হুঁশিয়ারি

নয়াদিল্লি ডেস্ক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

পাকিস্তান যদি সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দেওয়া এবং ভারতবিরোধী কার্যক্রম অব্যাহত রাখে, তবে দেশটিকে বিশ্ব মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার এক প্রচ্ছন্ন ও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী। পাকিস্তান ভূগোলের অংশ হিসেবে টিকে থাকবে, নাকি কেবল ইতিহাসের পাতায় স্থান পাবে—সেই সিদ্ধান্ত তাদের নিজেদেরই নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শনিবার (১৬ মে, ২০২৬) দিল্লির মানেকশ সেন্টারে ‘ইউনিফর্ম আনভেইল্ড’ আয়োজিত ‘সেনা সংবাদ’ শীর্ষক এক ইন্টারেক্টিভ অধিবেশনে বক্তব্য রাখার সময় তিনি এই কড়া হুঁশিয়ারি দেন।

'অপারেশন সিন্দুর' এবং সেনাপ্রধানের কড়া বার্তা

অধিবেশনে সেনাপ্রধানের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, গত বছর সংঘটিত ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর মতো পরিস্থিতি যদি আবারও তৈরি হয়, তবে ভারতীয় সেনাবাহিনী কীভাবে তার জবাব দেবে। জবাবে জেনারেল দ্বিবেদী স্পষ্ট ভাষায় বলেন:

  • ইতিহাস বনাম ভূগোল: "আমি এর আগেও যা বলেছি, তা যদি আপনারা শুনে থাকেন— সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দেওয়া এবং ভারতবিরোধী কার্যক্রম যদি তারা চালিয়ে যায়, তবে তারা বিশ্বের মানচিত্রে ভূগোলের অংশ হিসেবে টিকে থাকবে, নাকি কেবল ইতিহাসের পাতায় স্থান পাবে, সেই সিদ্ধান্ত তাদের নিজেদেরই নিতে হবে।"

  • পহেলগাম হামলার জবাব: জেনারেল দ্বিবেদীর এই মন্তব্যটি এমন এক সময়ে এলো, যার কিছুদিন আগেই ভারত ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর প্রথম বার্ষিকী উদযাপন করেছে। গত বছরের (২০২৫) মে মাসে পহেলগাম হামলার জেরে ভারতীয় বাহিনী পাকিস্তান ও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) একাধিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে বিধ্বংসী আক্রমণ চালায়, যা ‘অপারেশন সিন্দুর’ নামে পরিচিত।

গত বছরের সেই অভিযানের পর পাকিস্তান পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করলেও ভারতের জোরালো প্রতিরোধে তা ব্যর্থ হয়। পারমাণবিক অস্ত্রধারী দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে প্রায় ৮৮ ঘণ্টা ধরে চলা এই তীব্র সামরিক উত্তেজনা শেষ পর্যন্ত ১০ মে (২০২৫) সন্ধ্যায় উভয় পক্ষের একটি সমঝোতার মাধ্যমে শান্ত হয়েছিল।


পাক-ভারত সামরিক দ্বন্দ্বে 'মানচিত্র পরিবর্তন'-এর ইতিহাস: ১৯০০ থেকে ২০২৬

ভারতীয় সেনাপ্রধানের এই 'মানচিত্র থেকে মুছে দেওয়ার' প্রচ্ছন্ন হুমকি ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ এশিয়ার সীমানা নির্ধারণ ও দুই দেশের ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের এক দীর্ঘ ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতাকে সামনে নিয়ে আসে।

  • বিংশ শতাব্দীর শুরু ও অখণ্ড ভারত (১৯০০-১৯৪৭): ১৯০০ সালের দিকে ভারত ও পাকিস্তান নামে পৃথক কোনো রাষ্ট্র ছিল না; সম্পূর্ণ অঞ্চলটি ব্রিটিশ ভারতের মানচিত্রের অন্তর্ভুক্ত ছিল। ১৯০০ সালের সেই ঔপনিবেশিক জমানা থেকে ১৯৪৭ সালের দেশভাগের মধ্য দিয়ে বিশ্ব মানচিত্রে সম্পূর্ণ নতুন দুটি রাষ্ট্রের জন্ম হয় এবং কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে দুই দেশের চিরস্থায়ী ভূ-রাজনৈতিক শত্রুতার সূচনা ঘটে।

  • ১৯৭১ সালের যুদ্ধ ও মানচিত্রের বাস্তব পরিবর্তন: ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের সহযোগিতায় পাকিস্তানের ভাঙন এবং স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ছিল ১৯০০ সালের পর দক্ষিণ এশিয়ার মানচিত্রের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন। ১৯৭১ সালের সেই যুদ্ধে পাকিস্তানের মানচিত্র ছোট হয়ে যাওয়ার ঐতিহাসিক সত্যটিই মূলত ২০২৬ সালের এই মে মাসে ভারতীয় সেনাপ্রধানের 'ইতিহাসের পাতায় স্থান পাওয়ার' বক্তব্যের মূল মনস্তাত্ত্বিক ভিত্তি।

  • কার্গিল থেকে ২০২৪-এর নির্বাচন ও ২০২৬-এর নতুন বাস্তবতা: ১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধ এবং পরবর্তী সময়ে উরি ও বালাকোট এয়ারস্ট্রাইকের পর দুই দেশের সম্পর্ক 'প্রক্সি ওয়ার' বা ছদ্মযুদ্ধে রূপ নেয়। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর ভারতের প্রতিরক্ষা নীতি আরও বেশি আক্রমণাত্মক (Aggressive) রূপ ধারণ করেছে। ২০২৬ সালের এই মে মাসে 'অপারেশন সিন্দুর'-এর প্রথম বার্ষিকীতে দাঁড়িয়ে সেনাপ্রধানের এই বক্তব্য প্রমাণ করে যে, ভারত এখন আর কেবল সীমান্ত প্রতিরক্ষায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং তারা সরাসরি পাকিস্তানের সার্বভৌমত্বের ভিত্তিকে চ্যালেঞ্জ করছে।

  • পারমাণবিক যুগে মানচিত্রের রাজনীতি: ১৯০০ সালের প্রথাগত তলোয়ার ও কামানের আমল থেকে ২০২৬ সালের এই পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্রের যুগে এসে মানচিত্র বদলে দেওয়ার হুমকি অত্যন্ত বিপজ্জনক। ২০২৫ সালের সেই ৮৮ ঘণ্টার তীব্র সামরিক উত্তেজনা ও ২০২৬ সালের বর্তমান শীতল সম্পর্ক প্রমাণ করে যে, দুই দেশের সামরিক বাহিনী সামান্য উসকানিতেই একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দিকে ধাবিত হতে পারে।

বিশ্লেষণ ও উপসংহার

ইতিহাস সাক্ষী, দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি ও স্থিতিশীলতা সবসময়ই ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্কের ওঠানামার ওপর নির্ভর করেছে। ১৯০০ সালের সেই অখণ্ড মানচিত্র থেকে ১৯৪৭, ১৯৭১ এবং ২০২৫ সালের 'অপারেশন সিন্দুর'—সীমান্তের রক্তক্ষয়ী ইতিহাস কেবলই দীর্ঘ হয়েছে। ২০২৬ সালের মে মাসের এই উত্তপ্ত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভারতীয় সেনাপ্রধানের এই বক্তব্য যেমন একদিকে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ভারতের সামরিক শক্তি প্রদর্শনের কৌশল, অন্যদিকে তা পাকিস্তানের জন্য একটি চূড়ান্ত সতর্কবার্তা। পারমাণবিক অস্ত্রধারী দুই প্রতিবেশীর এই বাকযুদ্ধ শেষ পর্যন্ত কূটনৈতিক আলোচনার টেবিলে শান্ত হয় নাকি নতুন কোনো সংঘাতের জন্ম দেয়, সেটাই এখন বৈশ্বিক উদ্বেগের বিষয়।


সূত্র: ১. নয়াদিল্লির মানেকশ সেন্টারে ‘সেনা সংবাদ’ অধিবেশনে ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীর বক্তব্য (১৬ মে, ২০২৬)। ২. ঐতিহাসিক দলিল: বিংশ শতাব্দীতে ভারত-পাক যুদ্ধসমূহ এবং দক্ষিণ এশিয়ার সীমান্ত পরিবর্তনের ইতিহাস (১৯০০-২০২৬)।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency